রমাদান মাস আমাদের মুসলিমদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস । যা আমাদের
বারো মাসের চাইতে এ মাসটি গুরুত্ব সহকারে পালন করা লাগে । এ মাসটি আমাদের অনেক
বরকতময় মাস ।
রমাদানের গুরুত্বঃ
এই রমাদান মাসে আল্লাহতায়ালা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য আল-কোরআনুল
কারিম নাজিল করেছে । এই কোরআন হলো আমাদের জন্য একটি জীবনব্যবস্থা যা
আমাদের জন্য এই কোরআন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি কোরআন
এই কোরআনে কোনো ভুল নেই । আল্লাহতায়ালা বলেছেন, "এটা এমন একটি কিতাব , যে এই
কিতাবে কোনো সন্দেহ নেই ,মুত্তাকীদের জন্য এটা পথ-নির্দেশ ।" ( সূরা আল-
বাকারা, আয়াতঃ০২)
এই রমাদান মাসটাকে আমাদের অনেক গুরুত্ব দিতে হবে। যদি আমরা ভালো করে কাজে লাগাতে
পারি তাহলে আমাদের জীবনটা অনেক সুন্দর হবে। হাজার হাজার মাসের চাইতে এই
রমাদান মাসটি অনেক উত্তম । এ মাসটি আল্লাহর ইবাদত বেশি বেশি করে করতে হবে
,আল্লাহর বন্দেগী করতে হবে বেশি করে । এই রমাদান মাসে তারাবী নামায রয়েছে তারাবী
নামায আমাদের সবাইকে পড়তে হবে। এই মাসটি সিয়াম সাধনার মাস । রমাদান মাসে
হলো গুনা মাফের মাস, এই মাসে যেন আমর গুনা মাফ করতে পারি । এই মাসটি হলো কোরআন
নাযিলের মাস এই মাসে কোরআন নাযিল করা হয় । এই মাসটি হলো লাইলাতুল কদর সব
রাতের চেয়ে এই রাত হলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ । এই মাস হলো যাকাতে মাস মাস এই বেশি
করে দান করতে হবে। এই মাসে অনেক আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই মাসটি যদি
আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের জীবনটা অনেক সুন্দর হবে।
রমাদান মাস হলো আমাদের বরকতময় মাস । এই মাসে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদেরকে
অসংখ্য নিয়ামত দান করেন । এই মাসে আল্লাহতায়ালা বান্দাদেরকে অনেক রহমত দান করেন
।
রমাদান মাসের কোরআন নাযিলঃ
এই রমাদান মাসে আল্লাহতায়ালা এই মাসে কোরান নাযিল করেছেন । এই কোরআন হলো আমাদের
মানবজাতির হেদায়াত এর জন্য নাযিল করা হয়। এই পবিত্র কোরআন আমাদের শেষ
নবী আখেরী নাবী হযরত মুহাম্মাদ ( সঃ) এর উপর নাযিল করা হয় । এই কোরআন যদি
আমরা আমাদের জীবনব্যবস্থার কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের জীবন অনেক সুন্দর
হবে। আমরা দুনিয়াতে মানুষের কল্যাণে থাকতে পারবো । কোরআন দিয়ে আমরা আমাদের
পৃথিবীটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারবো। এই কোরআনে সবকিছু আছে কোনো কিছু বাদ দেওয়া
হয়নি । রমাদান মাসে ২৪ তারিখ দিবাগত রাতে কোরআন প্রথম আকাশে
"বাইতুল ইজ্জতে" নাযিল করা হয়।
রমাদান মাসে রোজার ফজিলতঃ
এই রমাদান মাসে রোজা থাকার অনেক ফজিলত রয়েছে। এই রোজা থাকার সওয়াব আল্লাহ নিজেই
তার নিজ হাতে প্রতিদান দেবে। রোজা থাকলে মানুষকে অনেক তাকওয়বান বানাই ।
রোজা থাকলে আমাদের জীবন অনেক সুন্দর হয়। রোজা থাকলে আমরা কোনো খারাপ কাজ করতে
পারিনা । আমাদের জন্য অনেক কাজে আসে। এ মাসে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
এই রমাদান মাসের ফজিলতের বর্ণনা করা হয়েছে যে -একটি হাদিসে এসেছে,
রমাদান মাস যখন আসে তখন, জন্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং
জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় । আর শয়তানকে আটকে রাখা হয়
শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় । (সহীহ বুখারী, হাদিসঃ ৩২৭৭)
রমাদান মাসে আমাদের আত্মশুদ্ধির মাস । এ মাসে আমাদের ভালো করে শিক্ষা নিতে হবে
যাতে করে আমরা বারো মাস আল্লাহর ইবাদতে ভালো করে করতে পারি ।
আল্লাহতায়ালা বলেছেন যে,
" হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরজ করা হয়েছে, যা তোমাদের
পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল , যেন তোমরা সংযমশীল হতে
পারো ।" ( সূরা বাকারা আয়াতঃ১৮৩ )
আরো পড়ুনঃ
মুসলমানদের জন্য রোযা করা ফরজ । তাই আমাদের রমাদান মাসে সবাইকে রোজা থাকার
নির্দেশ করেছেন আল্লাহতায়ালা। এই মাসে রোজা থেকে যেন আমরা আমাদের
জীবন পরিবর্তন করতে পারি।
আল্লাহতায়ালা আরো বলেছেন যে,
" রমাদান মাস এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও
সত্যসত্যের পার্থক্যকারী রুপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই
মাস পাবে তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে। এবং কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে থাকলে
অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের
জন্য কষ্টকর তা চান না এই জন্য যে, তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদেরকে সৎপথে
পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। " ( সূরা বাকারা আয়াতঃ১৮৫ )
রমাদান মাসে যদি আমরা সিয়াম পালন করি , এতে আমাদের জন্য আল্লাহতায়ালা রহমত
ঢেলে দেয়। রমাদান মাস হলো জীবন পরিবর্তন করার মাস । রোযা রাখলে আল্লাহ
ওয়ালা বানায় , আল্লাহ ভীরু বানায় , রোযা রাখলে আল্লাহকে কাছে পাওয়া যায়, রমাদান
মাস খুব মর্যাদার মাস। রোযা রাখলে আল্লাহ তায়ালা জীবনের গুনাগুলো মাফ করে দেয়।
আমরা যেন বেশি করে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি । আমরা যেন রমাদান মাসে সিয়াম পালন
করতে পারি ।
রমাদান মাসে লাইলাতুল কদর এর ফজিলতঃ
রমাদান মাসের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত হলো লাইলাতুল কদর । এই রাতে যদি আল্লাহর
কোনো বান্দা যদি কান্নাকাটি করে জীবনের গুনা মাফ করতে পারে । হাজার হাজার রাতের
চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত হলো লাইলাতুল কদর । এ মাসে এই রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে
হবে , আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে বেশি করে । আল্লাহর কাছে দোয়া করলে
আল্লাহতায়ালা দোয়া কবুল করবেন আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ খালি হাতে
ফেরাবেন না ।
তাই আমাদের রমাদান মাসে, শেষ দশক রমাদান মাসে আল্লাহর কাছে
লাইলাতুল কদর তালাশ করতে
হবে । আল্লাহর রাসুল ( সঃ ) বলেন ,
হযরত আনাস ( রাঃ ) থেকে বর্ণিত , আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ ( সঃ )
বলেন,
" এই মহিমান্বিত মাস উপস্থিত । এতে একটি রজনী রয়েছে যা ,হাজার মাস থেক এই
মাসটি অনেক উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বেরিয়ে
এলো সে যেন সকল কল্যাণ ও বরকত থেকে বেরিয়ে আসলো । আর অভাগাইরা এর কল্যাণ থেকে
বঞ্চিত থাকে। " ( -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ১৬৪৪ )
এই রমাদান মাসে এই রাতে বেশি করে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। আল্লাহর কাছে বেশি
করে আল্লাহর কাজ করতে হবে। এই রাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ । রমাদান মাসের শেষ
দশদিন লাইলাতুল রাত তালাশ করতে বলেছেন।
রমাদান মাস গুনা মাফের মাসঃ
রমাদান মাস হলো গুনা মাফের মাস । এ মাসে আল্লাহর কাছে গুনা মাফ চাওয়া এ
মাসে যদি আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া হয় তাহলে আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন। এ
মাসে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে নিজের চোখের পানি
ঝরিয়ে মাফ চাইতে হবে। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যদি সিয়াম পালন করেন তাহলে
আল্লাহ তায়ালা আমাদের পেছনের বা পূর্বের গুনা মাফ করে দেন। এই মাসটি হলো
ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ মাস এ মাসে বেশি বশি করে নফল ইবাদত করতে হবে। আমাদের
আল্লাহর কাছে বেশি করে নেক আমল করতে হবে। আমাদের ভালো কাছ করতে হবে।
রমাদান মাস যাকাতর বা দান সাদকার মাসঃ
রমাদান মাস হলো দান সাদকার মাস । এ মাসে যদি আমরা বেশি করে ভালো কাজ
করতে পারি তাহলে
নেক কাজ করতে পারি তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের অনেক সওয়া দিবেন। এ মাসে যাকাত
দেওয়া, অসহায় মানুষদের কাছে দাঁড়ানো । আমাদের সমাজে দেখা যায় অনেক মানুষ খেতে
পারে না এসব মানুষদের পাশে আমাদের দাঁড়ানো । এসব মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা যেনো
সহযোগিতা করতে পারি। আমাদের সমাজে দেখা যায় রমাদান মাসে তারা ইফতার কেনার
টাকা পায়না এই রমাদান মাসে আমরা যেন তাদের কাছে ইফতার পোঁছে দিতে
পারি । ইদের সময় তাদের কাছে যেন ভালো কিছু নিয়ে যেতে পারি । এই রমাদান মাসে ভালো
কাজ করতে হবে। অসহায় মানুষদের পাশে দাড়তে পারি । এই রমাদান মাসে দান সাদকা করতে
হবে। এতিম মানুষের পাশে যেন বেশি করে থাকতে পারি । আমরা যেন বেশি করে যাকাত
দিতে পারি ।
রমাদান মাসে দোয়া কবুলের সময়ঃ
রমাদান মাসে আল্লাহ তায়ালা দোয়া বেশি কবুল করেন । এ মাসে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে
হবে। রমাদান মাসে যদি কোনো রোযাদার ব্যক্তি রোযা থাকা অবস্থায় দোয়া
করেন তাহলে দোয়া কবুল করেন। দোয়া সময় হলো ইফতারের
পূর্বে যদি কোনো ব্যক্তি ইফতারের সময় ইফতার সামনে নিয়ে দোয়া করেন তাহলে
আল্লাহতায়ালা দোয়া কবুল করেন। রোযা থাকার জন্য সাহরীর সময় দোয়া
করার সময় । দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন। আর যদি কোনো
ব্যক্তি আসর নামাযের পর মাগরিব নামাযের পূর্বে এমন এক সময় আছে যা দোয়া করলে
আল্লাহ তায়ালা দোয়া কবুল করেন ।
উপসংহারঃ
রমাদান মাসে অনেক আমাদের মাঝে বরকত নিয়ে আসে । এই রমাদান মাস আমাদের জন্য
অনেক গুরুত্বপূর্ণ এ মাস জীবন পরিবর্তন করে। এই রমাদান মাস থেকে আমাদের
শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে যাতে করে আমরা আরো এগারো মাস আল্লাহর ইবাদত করতে
পারি । তাই আমরা এই রমাদান মাস থেকে আমরা যেন ভালো শিক্ষা নিতে পারি এবং
আমল করতে পারি।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url